২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা (বিওএ)। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আয়োজক শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে ভোক্তা ব্যয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

ব্যাংক অব আমেরিকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রায়ান ময়নিহান জানান, বিশ্বকাপকে ঘিরে সৃষ্ট মোট ৪০ বিলিয়ন ডলারের নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে। এর সুফল শুধু স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক নয়, বরং স্থানীয় বার, রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, "ক্যানসাস সিটির মতো আয়োজক শহরগুলোতে অন্যান্য শহরের তুলনায় ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি বেশি দেখা যাচ্ছে। মানুষ শুধু স্টেডিয়ামেই নয়, বরং পানশালা, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন স্থানীয় ব্যবসায়ও বেশি অর্থ ব্যয় করছে।"

বিওএ'র তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৭ কোটি গ্রাহক বর্তমানে প্রতি মাসে ৪০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ বেশি।

গত জুনে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে মোট ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি ব্যয় বাদ দিলে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৬ শতাংশ, যা বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব নির্দেশ করে।

একই চিত্র তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরো। সংস্থাটির তথ্যে দেখা যায়, জুনে খুচরা বিক্রি ও খাদ্যসেবা খাতে বিক্রি ৬.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা টানা পঞ্চম মাসের প্রবৃদ্ধি। এছাড়া ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বকাপকে ঘিরে বার ও রেস্তোরাঁয় ব্যয় ৩.৮ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি বিমান ভ্রমণ ও অবকাশযাপন খাতে ব্যয় দুই অঙ্কের হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পোশাক খাতে ব্যয় ৭ শতাংশ এবং সাধারণ পণ্যে ৫ শতাংশ বেড়েছে।

তবে বিওএ জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদনে বিদেশি দর্শকদের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে বিশ্বকাপের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুন মাসেই দর্শকরা সেখানে ১.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলে মোট অর্থনৈতিক প্রভাব দাঁড়িয়েছে ২.১ বিলিয়ন ডলার এবং কর রাজস্ব এসেছে ২২৮ মিলিয়ন ডলার।

তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লেও কর্মসংস্থানে বিশ্বকাপের প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। জুনে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৫৭ হাজার, যা পূর্বাভাসের চেয়ে কম। একই সময়ে অবকাশ ও বিনোদন খাতে ৬১ হাজার চাকরি কমেছে।

এর আগে গোল্ডম্যান স্যাকস ধারণা দিয়েছিল, বিশ্বকাপের কারণে প্রায় ৪০ হাজার অতিরিক্ত চাকরি সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি।

বিশ্বকাপের ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে ইতোমধ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও শুরু হয়েছে। বোস্টন ২০৩১ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বিড করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভবিষ্যতে আবার ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য দেশটির বিড করার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রাইমটিভি/এমআর