ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে ইসরায়েল ও ইরানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ঐতিহাসিক ‘ইলাত-আশকেলন’ পাইপলাইন ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ষাটের দশকে তৎকালীন ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর অর্থায়ন এবং ইসরায়েলি প্রকৌশলে নির্মিত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ইলাত-আশকেলন পাইপলাইনটি বর্তমান সংকটে সৌদি আরবের জন্য কার্যকর বিকল্প রুট হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাজান ও ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগারে হুথি হামলার পর দৈনিক প্রায় চার লাখ ব্যারেল উৎপাদনক্ষমতার শোধনাগার বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাব এল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগর হয়ে ইউরোপে তেল পরিবহন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন সৌদি আরব থেকে ইলাত পর্যন্ত প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছেন।

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বিশ্লেষক জয় লেটনির মতে, ইলাত-আশকেলন পাইপলাইনটি উত্তরমুখী প্রবাহে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম। যদিও এটি সৌদি আরবের মোট রপ্তানির তুলনায় সীমিত, তবুও বর্তমান নিরাপত্তা সংকটে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে প্রকল্পটি চালু করতে ইলাত বন্দরের সংস্কার, গভীরতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অবস্থানে রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে ভবিষ্যতে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও ইরান এবং হুথি বিদ্রোহীরা এমন পদক্ষেপকে নেতিবাচকভাবে দেখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

প্রাইমটিভি/এনজি