শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্র চালানোর জবাব দিতে হবে মোদি-শাহকে: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

ছবি:সংগৃহীত
ভারতের লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্যামেরার কোণ নয়, হৃদয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেই তরুণদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কোনো সন্ত্রাসী ছিল না। তাহলে কেন তাদের ওপর লাঠিচার্জ, পেলেট গান ও অস্ত্র ব্যবহার করা হলো— এ প্রশ্নের জবাব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই দিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ দূর করার পরিবর্তে সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জবাব দিয়েছে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে। তার ভাষায়, প্রতিটি লাঠির আঘাত শিক্ষার্থীদের নয়, বরং সরকারের ভাবমূর্তিরই বেশি ক্ষতি করেছে।
রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে আহত এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, এমন একটি ব্যবস্থার ওপর দেশের তরুণরা আস্থা হারাচ্ছে, যেখানে মেধার চেয়ে অনিয়মই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। গত এক দশকে ১৫২টি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কোনো ফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারি শিক্ষায় বিনিয়োগের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পরিবারগুলোর অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
এদিকে কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালও নিট পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি লোকসভায় মহারাষ্ট্রের ১৯ বছর বয়সী নিট পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা সাঙ্গালের আত্মহত্যার আগে লেখা একটি চিঠি পড়ে শোনান। মাত্র ১১ নম্বর কম পাওয়ায় কাট-অফে পৌঁছাতে না পেরে গত ২৫ জুলাই আত্মহত্যা করেন অঙ্কিতা।
ভেনুগোপাল দাবি করেন, ২০১৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৬৮, যা বর্তমানে বেড়ে ১৪ হাজার ৪৮৮-এ পৌঁছেছে। এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশের জন্য এক গভীর সংকট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কার ‘প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার কোণ নয়, হৃদয়ের কোণ বদলানো দরকার’ মন্তব্যকে ঘিরে লোকসভায় কিছু সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের সদস্যদের আপত্তির পর স্পিকার ওম বিড়লা তার কিছু মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ভেনুগোপাল বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের শত্রু নয়। তাদের ওপর হামলার জন্য যারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সূত্র: দ্য হিন্দু।

ডেস্ক রিপোর্ট
© ২০২৬ প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








