নৈতিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর আবারও আলোচনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। এবার তার বিরুদ্ধে চাকরি, সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, ঠিকাদারি লাইসেন্স করে দেওয়া এবং নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিযোগ করেন গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও আলোচিত এক তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান। তার দাবি, অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তা ধামাচাপা দিতে তাকে অর্থ, পদ-পদবি, গাড়ি এবং বিভিন্ন সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি কোনো প্রস্তাবে রাজি হননি।

ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য থাকাকালে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রাজধানীর পল্লবীতে তাদের বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গভীর রাতে মোবাইল ফোনে কথোপকথন নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে বিষয়টি অনুসন্ধান করে গোপন যোগাযোগের জন্য আলাদা একটি মোবাইল ফোন ব্যবহারের তথ্য পান বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানো হয়েছে। ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রথম শ্রেণির একাধিক ঠিকাদারি লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সরকারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়েছে বলে তার দাবি।

ওবায়দুর রহমান জানান, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার দাবি, মামলার দুজন আসামি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে, অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি জোরদার হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই নৈতিকস্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয়ভাবে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকেই তার নির্বাচনি এলাকায় প্রতিবাদের মাত্রা বাড়তে থাকে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রাইমটিভি/এমআর