হরমুজের ‘অভিভাবক’ হবে যুক্তরাষ্ট্র, আদায় করবে টোল: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । প্রাইম টিভি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ এবং হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এ ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করেছে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এবং কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
সোমবার (১৩ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার এবং ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করবে। পরে মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার জানায়, মঙ্গলবার জিএমটি (গ্রিনিচ মান সময়) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হবে।
ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে এবং এ অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয় মেটাতে প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত সব কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ হারে টোল আদায় করা হবে।
এ ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত, ওমান ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় বন্দর নগরীগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে, জাতিসংঘের নৌ চলাচল সংস্থা আইএমও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর বাধ্যতামূলক টোল আরোপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক প্রণালিতে ফি আরোপের বিরোধিতায় তারা আগের অবস্থানেই রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত জুনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও আন্তর্জাতিক নৌপথে কোনো দেশের টোল আদায়ের অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণাকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে পূর্বের সমঝোতার পরিপন্থী বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের অনুমতি ছাড়া মার্কিন বাহিনী যদি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা দেশগুলোকেও এর পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছে ইরান।
সূত্র: আলজাজিরা
প্রাইমটিভি/এনজি

ডেস্ক রিপোর্ট
© ২০২৬ প্রাইম টেলিভিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







