জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঘোষিত ‘এক দফা’ এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর দাবি, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি এবং দেশে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে এনসিপি আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা আন্দোলন করিনি। আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের ঘোষণা করেছিলাম। আমরা এ দেশকে আবার কোনো স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য হতে দেব না।”

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এক দফার প্রকৃত কারিগর’ হলেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা।

এক দফা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পুলিশসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থাকত না। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এখনো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে এবং মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত দুই বছরে দলটি সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘুষ ও দুর্নীতি আগের মতোই চলছে এবং ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রচারণা নতুন নয়।

আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও কড়া বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের দাবিতে আন্দোলনে নামবেন। এ বিষয়ে তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়ার মতো মন্তব্যও করেন।

এদিকে, সভায় চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি জানান, হবিগঞ্জে হামলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর একটি চোখ হারানোর প্রতিবাদে তিনি এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু, মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম এবং শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

প্রাইমটিভি/এমআর